বৃষ্টি, বজ্রপাত আর বারবার খেলা বন্ধের নাটক; সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ডিএলএসের হিসাবেই ফল নির্ধারিত হলো ওয়ান্ডারার্সে। জোহানেসবার্গে রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ ম্যাচে হারলেও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।
টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর পর থেকেই আবহাওয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে একাধিকবার খেলা বন্ধ থাকে। প্রথমে ম্যাচ ১৬ ওভার করে নির্ধারিত হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তা নামিয়ে আনা হয় ১০ ওভারে।
সংক্ষিপ্ত এই ম্যাচে ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ার। জনসন চার্লস শূন্য রানে ফিরলেও শুরু থেকেই দায়িত্ব নিয়ে খেলেন শাই হোপ। ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ম্যাচের গতি নির্ধারণ করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে আরও বিধ্বংসী ছিলেন হেটমায়ার। মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ছয়টি ছক্কা। ২০০ ছাড়ান স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় সংগ্রহের ভিত পায়। শেষদিকে রোভম্যান পাওয়েল ৭ বলে ১৩ রান যোগ করলে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি ও কেশব মহারাজ একটি করে উইকেট নেন।
বৃষ্টির কারণে সংশোধিত ডিএলএস পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০ ওভারে ১২৫ রান। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম মাত্র ২ রান করে ফিরে যান।
কুইন্টন ডি কক ১৪ বলে ২৮ রান করে কিছুটা আশা জাগালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, রায়ান রিকেলটন ও জর্জ লিন্ডে দ্রুত রান তুললেও কেউই থিতু হতে পারেননি। ব্রেভিস ১০ বলে ১৭, রিকেলটন ৭ বলে ১৫ এবং লিন্ডে ৯ বলে ১৭ রান করেন।
শেষ দিকে জেসন স্মিথের ১০ বলে ঝড়ো ২৬ রান ম্যাচে উত্তেজনা ফেরালেও শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৮ রান, যা ডিএলএস লক্ষ্য থেকে ৬ রান কম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গুডাকেশ মোতি। ২ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। আর পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক।
শেষ ম্যাচে জয়ে সান্ত্বনা পেলেও সিরিজের ট্রফি শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রেখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকাই।