গ্রুপপর্বে ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে চাপ, পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের জায়গায় বড় পার্থক্য গড়ে দেয় ভারত। ফলাফল, ফাইনালে ৪-০ গোলের বড় পরাজয়।
নারী সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথমার্ধেই সমস্যার আভাস মিলেছিল। বাংলাদেশের খেলায় ছিল স্পষ্ট এলোমেলোভাব। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা যায়নি, রক্ষণ ও আক্রমণের মাঝে দূরত্ব ছিল বেশি। বিপরীতে ভারত ছিল বেশি সংগঠিত ও ধৈর্যশীল। বল পজিশন ধরে রেখে ধাপে ধাপে আক্রমণ সাজিয়েছে তারা। এর ফলেই ৪২ মিনিটে লিড পায় ভারত। ওই গোলের আগে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিরতির পর বাংলাদেশ যে ম্যাচে ফিরতে চেয়েছিল, সেটা বোঝা গিয়েছিল। ৫১ মিনিটে তৃষ্ণা রানীর সুযোগটাই হতে পারত ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। ওই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচে মানসিক ভারসাম্য ফিরত। কিন্তু সহজ সুযোগ নষ্ট হওয়াতেই উল্টো চাপ বাড়ে বাংলাদেশের ওপর।
এরপরের ঘটনাগুলো পুরো ম্যাচের চিত্রটাই পাল্টে দেয়। গোলকিপার ইয়ারজানের সিদ্ধান্তহীনতায় পেনাল্টি হজম করা এবং পরপর ভুলে দুটি গোল হজম। এগুলো শুধু টেকনিক্যাল ভুল নয়, মানসিক চাপেরও প্রতিফলন। ফাইনালের মতো ম্যাচে এমন ভুলের সুযোগ প্রতিপক্ষ ছাড়ে না, ভারতও ছাড়েনি।
আরেকটি বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বেঞ্চ শক্তি ও ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট। ভারত বদলি খেলোয়াড়দের দিয়ে চাপ বজায় রাখে, যেখানে বাংলাদেশের বদলি খেলোয়াড়রা ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কোচ পিটার বাটলারের কৌশলগত পরিবর্তনও মাঠে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত তাই ঘটে, ৪-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় বাটলারের দল।