আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস, দেশে স্বর্ণের ভরিতে ২,০০০ টাকার
গত দুই সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কমতে থাকায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য হালনাগাদ অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বর্তমানে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকায় নেমে এসেছে, যা গত দুই সপ্তাহে সর্বনিম্ন।
বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৪০ ডলার।
এই পতনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে
১. যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিতে কড়াকড়ি
২. ডলারের মান বৃদ্ধি
৩. বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ থেকে সরে আসার প্রবণতা
বাজুসের বক্তব্য:
বাজুস জানিয়েছে,
“আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আমরা স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করি। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় দামও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।”
ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া:
স্বর্ণের দরপতনে খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকে বিবাহ বা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় এগোচ্ছেন এখনই কিনে রাখতে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমলেও বিক্রি এখনো তেমন বাড়েনি—এটা এখনো বাজার পর্যবেক্ষণের সময়।
বিশ্লেষণ:
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
“সাধারণত বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দামও পড়েছে।”
তারা আরও জানান, মূল্য আরও কমতে পারে যদি বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতি বজায় থাকে এবং কোনো বড় সংকট না ঘটে।
দুই সপ্তাহে স্বর্ণের মূল্য হ্রাস ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও, বাজারে স্থায়ীত্ব না এলে বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক থাকবে। তাই স্বর্ণ কেনার আগে বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন জরুরি।