শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন ও বন্দর সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। তবে, শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস এজেন্ট, বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা বলছেন, বন্দরের টার্মিনালগুলোতে জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠানামা, পণ্য ডেলিভারিসহ সব ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। এমনকি রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বহির্নোঙরে থাকা কার্গো জাহাজগুলো থেকেও পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।
এনসিটি চুক্তি প্রসঙ্গে রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে টার্মিনালটি বিদেশি দক্ষ অপারেটরের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির নেগোসিয়েশন শেষ হলে বিষয়টি কেবিনেটে যাবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে চুক্তি করা হবে।’
চুক্তি সম্পাদনে তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠান আইএফসির মাধ্যমে চুক্তির শর্ত প্রণয়নের কাজ চলছে।’ দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করা হবে না বলে আস্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তার আগেই চুক্তির বিষয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
তাকে অপসারণ করার খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা মিটিং করে এলাম। অপসারণ করা হলে আমার তো এখানে থাকার কথা না।’
এ ছাড়া, তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চলমান সংকট নিরসনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এই বন্দর দীর্ঘদিন অচল থাকলে রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বাজার, সব জায়গাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর যৌথ বক্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত সংকট সমাধান ও পূর্ণাঙ্গ বন্দর কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এখন সময়ের দাবি।