ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার চারদিন পেরিয়ে গেলেও মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কি আহত হয়েছেন? তিনি কি আদৌ বেঁচে আছেন?
এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে খুব সীমিত তথ্য রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি নিউজ চ্যানেল তাকে ‘রমজান যুদ্ধের একজন অভিজ্ঞ সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে তিনি আহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে আর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।
রয়টার্স এক অজ্ঞাত ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তিনি ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও মোজতবা খামেনির মা এবং স্ত্রীও নিহত হন।
গত ৮ মার্চ ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় চারদিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে কিংবা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের কোনো ভিডিও বা ছবিতে দেখা যায়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে পরোক্ষভাবে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ নির্বাচিত করে। এটি ৮৮ সদস্যের একটি সাংবিধানিক সংস্থা, যারা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং তার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া মোজতবা খামেনির প্রথম বার্তার একটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
সেটি হলো তার এই দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে নিজের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন।
একজন সংবাদ পাঠকের পাঠ করা ওই বার্তায় খামেনি বলেন, ‘সম্মানিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটের ফলাফল আমি আপনাদের মতো একই সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’
গনচেহ হাবিবিআজাদ বিবিসি ফার্সির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক