ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঘোষণা করেছেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি সোমবার রাতে ‘নিহত’ হয়েছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে গত রাতে নির্মূল করা হয়েছে। তারা এখন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির প্রধান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ‘শয়তানের অক্ষশক্তির’ অন্য সব নিহত সদস্যদের সঙ্গে নরকের অতল গহ্বরে যোগ দিয়েছেন।”
‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি বাহিনী) ইরানের এই সন্ত্রাস ও দমনমূলক শাসনের নেতৃত্বকে খুঁজে বের করা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি, যাতে এই অক্টোপাসের মাথা বারবার কেটে ফেলা যায় এবং এটিকে আর বড় হতে না দেওয়া হয়,’ যোগ করেন মন্ত্রী।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে দাবি করেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিই ছিলেন ইরানের ‘কার্যত নেতা’ এবং তিনিই শাসনের মূল সিদ্ধান্তগুলো নিতেন।
ওই কর্মকর্তার দাবি, লারিজানি ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
ইসরায়েলি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি ইরানের সক্ষমতা এবং তাদের যুদ্ধযন্ত্র দিয়ে ইসরায়েল ও নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত। আমরা ইরানি শাসনের সক্ষমতা ধ্বংস করতে আমাদের চাপ অব্যাহত রাখব।’
ইরান এখন পর্যন্ত লারিজানির নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে লারিজানির হাতে লেখা একটি চিরকুট পোস্ট করেছে, যেখানে নৌবাহিনীর নিহত সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে ১৭ মার্চের তারিখ দেওয়া ছিল।
লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী বেসামরিক কর্মকর্তাদের একজন এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন