রয়টার্সের প্রতিবেদন
গাজা যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-যোগাযোগ ও বাণিজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতিরা তেহরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথে আঘাত হানতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক হুতি নেতা এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হুতিদের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল ও অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান এরই মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় হুতিরা যদি যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বা রণাঙ্গন খোলে, তাহলে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালী।
এই সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুয়েজ খালের দিকে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর লেবানন ও ইরাকের ইরানপন্থি শিয়া মিত্ররা এরই মধ্যে আঞ্চলিক এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে।
তবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী—যারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত হানতে ও আরব উপদ্বীপের নৌ-চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম—তারা এখনও সরাসরি এই লড়াইয়ে নামেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হুতি নেতা রয়টার্সকে বলেন, ‘সামরিকভাবে আমরা সব ধরনের বিকল্প নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। লড়াইয়ের সময় নির্ধারণের বিষয়টি নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং উপযুক্ত সময়েই পদক্ষেপ নেব।’
‘ইরান এখন পর্যন্ত ভালো করছে এবং প্রতিদিন শত্রুকে পরাজিত করছে। যুদ্ধ তাদের পক্ষেই আছে। তবে যদি এর বিপরীত কিছু ঘটে, তখন আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেব,’ যোগ করেন তিনি।
কিছু কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের মতে, হুতিরা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধের সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে শত্রুর ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা যায়। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোহিত সাগরের ওপর অতিনির্ভরশীলতা হুতিদের জন্য সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যদি ইরানের মূল ভূখণ্ড বা এর দ্বীপগুলোতে হামলা চালানো হয়, তাহলে ইরান বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন রণাঙ্গন খুলে দিতে পারে।
বাব আল-মান্দেব—যাকে এর বিপজ্জনক নৌ-চলাচলের কারণে ‘অশ্রুদ্বার’ বলা হয়—লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। এই প্রণালী আরব উপদ্বীপের ইয়েমেন এবং আফ্রিকা উপকূলের জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝে অবস্থিত।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হিসেবে পরিচিত এই পথ দিয়ে মূলত অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছায়। এ ছাড়া রাশিয়ার তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এ পথেই এশিয়ায় যায়।