মার্কিন ডলারের নোটে চলতি বছরের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর দেখা যাবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প হতে যাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যার স্বাক্ষর ডলারের গায়ে থাকবে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষরের পাশেই থাকবে তার নাম।
এর ফলে গত এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে মুদ্রায় মার্কিন কোষাধ্যক্ষের নাম থাকার যে রীতি ছিল, তা আর থাকছে না।
স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমাদের মহান দেশ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন ডলারে তার নাম থাকার চেয়ে শক্তিশালী কোনো উপায় হতে পারে না। দেশের ২৫০তম বার্ষিকীতে এই ঐতিহাসিক মুদ্রা ইস্যু করা একেবারেই যথাযথ।’
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ছড়িয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা ট্রাম্প করে আসছেন, ডলারে সই যুক্ত করা তারই সবশেষ উদাহরণ। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন সমাজে নিজের দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যেতে চাইছেন।
২০২৫ সালের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প নিজের মুখচ্ছবি সম্বলিত এক ডলারের কয়েন এবং তার ছবিযুক্ত ২৪ ক্যারেটের সোনার স্মারক মুদ্রা তৈরির জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।
এ ছাড়া তিনি ওয়াশিংটনে জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করেছেন। এমনকি তার প্রশাসন ওয়াশিংটনের ডালেস বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে তার নামে করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে করোনা মহামারির সময় মার্কিন নাগরিকদের কাছে পাঠানো লাখ লাখ অর্থনৈতিক উদ্দীপনা চেকেও ট্রাম্প তার স্বাক্ষর যোগ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় স্বাক্ষরের ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৮৬১ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেন, যার মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী মুদ্রায় স্বাক্ষর করার ক্ষমতা পান।
এরপর ১৯১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এবং কোষাধ্যক্ষ যৌথভাবে মুদ্রায় স্বাক্ষর করা শুরু করেন।
এ বছরের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে সব ধরনের ডলার নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর থাকবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।