অপশক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার শক্তিকেই এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে আবার সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা সেইদিন আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে, পাকিস্তান বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আমাদেরকে ভালো করে সতর্কতার সঙ্গে সেই অপশক্তিকে পরাজিত করে স্বাধীনতার শক্তিকেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেখানেই আমাদের সাফল্য।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবাই আমাদের নেতা তারেক রহমানের ওপর প্রচন্ড রকমের আশাবাদী। তিনি আসার পরেই মানুষের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, আশা জাগিয়ে চলেছেন। দেশে এসেই তিনি বললেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’
তিনি বলেন, আমাদের নেতা প্রতিশোধের কথা বললেন না, প্রতিহিংসার কথা বললেন না। বললেন যে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ আমি একটা পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি দেশটাকে গড়বার।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেরকম একটা কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে গোটা বাংলাদেশকে সেই বোটমলেস বাস্কেট থেকে একটা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারই যোগ্য পুত্র তারেক রহমান আজকে আমাদেরকে সেই পথ দেখাচ্ছেন।’
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সব অপশক্তিকে পরাজিত করে আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবের হাত শক্তিশালী করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে অর্জন করি আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ, আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে পারে।’
কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এ দেশের মানুষ ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে এবং লড়াই করেই টিকে থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর বহু নির্যাতন সহ্য করেছি, আমাদের সমস্ত জীবনটাকে ১৮ বছর ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, তছনছ করে ফেলা হয়েছে। এখানে আমি সামনে যাদের দেখতে পাচ্ছি আমার সহকর্মীবৃন্দ প্রত্যেকেই ভয়াবহভাবে নির্যাতিত নিগৃহীত। আমাদের ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল, ২০ হাজার তরুণ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। ইলিয়াস আলীসহ তিনজন নেতা, ১৭শ নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। তারপরও কিন্তু আমরা আমাদের দেশনেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) লক্ষ রেখে মাথা নত করিনি। করেছি কখনো? লড়াই চালিয়ে গেছি।’
আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।