সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন; যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার (২৮ মার্চ) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সৌদি আরবের এই ঘাঁটিতেই গত ১ মার্চ হামলা চালিয়েছিল ইরান, যাতে এক মার্কিন সেনা প্রাণ হারান।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবারের হামলায় কমপক্ষে দুটি কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং বিমানও (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমন সময়ে এই হামলা হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ‘শান্তির’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দোটানায় রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ‘শান্তি আলোচনা’ চলছে এবং তা ‘ইতিবাচক’ দিকে এগোচ্ছে; যদিও ইরানি কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন।
এর মধ্যেই ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর জন্য তারা তাদের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার ব্যবহার করছে।
ইরানের এই অব্যাহত হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের হাজার হাজার সেনাকে হামলার মুখ থেকে সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে, এমনকি ইউরোপের মতো দূরবর্তী স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের বেশিরভাগ হামলাই মার্কিন ও মিত্রশক্তির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ইরানের শাহেদ ড্রোনগুলো বেশ সাশ্রয়ী এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।
অন্যদিকে শাহেদ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত এবং সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়। কিছু ক্ষেত্রে ইরানি হামলাগুলো এই প্রতিরক্ষা বলয়কে ভেদ করতে সক্ষম হওয়ার কারণেই মার্কিন সেনারা হতাহত হচ্ছেন।