ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ‘শেষের পথে’ উল্লেখ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো, বরং ‘কঠোর আঘাতের’ হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে।
একই সঙ্গে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজার। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পরই এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় ১৯ মিনিটের ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে ‘কঠোর আঘাত’ হানবে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আশাহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
পাঁচ সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধ এরই মধ্যে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে উন্নত দেশগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ও রান্নার জ্বালানির মতো মৌলিক চাহিদাও হুমকির মুখে পড়েছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে (জুন ডেলিভারি) পৌঁছেছে, যা গত মঙ্গলবার ছিল ১০১ দশমিক ১৬ ডলার।
অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে (মে ডেলিভারি) দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার এর দাম ছিল ১০০ দশমিক ১২ ডলার।
এক মাসেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
শেয়ারবাজারে ধস
আমদানিনির্ভর এশিয়ার দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে, যা আগের দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে ম্লান করে দিয়েছে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারের, যেখানে সূচক পড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। গতকাল বুধবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর আগেই ফিউচার ট্রেডিংয়ে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পতনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইউরোপের বাজারেও মন্দাভাব বিরাজ করছে। মহাদেশীয় সূচক স্টক্স ৬০০ এক শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।