ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলার ‘ছাড় দিতে’ ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে, এমন খবর শনিবার (১১ এপ্রিল) অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। ইসলামাবাদে যখন ওই দুই দেশের প্রতিনিধি দল শান্তি আলোচনার জন্য উপস্থিত হয়েছে, ঠিক তখনই এ তথ্য সামনে এল।
এই আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ের বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কাতারসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি অর্থ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদনে দ্বিতীয় এক ইরানি সূত্র জানায়, কাতারের ব্যাংকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, এই অর্থ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল’ নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হতে যাচ্ছে এই নৌপথ।
জব্দ থাকা এই ৬০০ কোটি ডলার মূলত ২০১৮ সাল থেকে আটকে আছে। ২০২৩ সালে এক বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ ছাড় দেওয়ার কথা ছিল।
তবে সে বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ জব্দ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকে আটকে থাকা এই অর্থ মূলত ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির লভ্যাংশ।
২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দিলে এই অর্থ আটকে যায়। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে এই অর্থ কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।