যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ভাড়াটেদের প্রতি হওয়া অবিচারের বিষয়ে সবসময় সোচ্চার থাকলেও তিনি এটিও স্বীকার করেছেন, ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে অনেক বাড়ির মালিক বর্তমানে দিশেহারা।
এই সংকট নিরসনে মেয়র এবার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, আকাশচুম্বী সম্পত্তি বিমা খরচ নিয়ন্ত্রণ। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বাড়ির মালিকেরা আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি বিমা খরচ কমলে বাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে তারা বেশি ব্যয় করতে পারবেন; যা শেষ পর্যন্ত ভাড়াটেদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনবে।
এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মামদানি ঘোষণা করেছেন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং ভাড়া স্থিতিশীল থাকা ভবনগুলোর মালিকদের জন্য সস্তায় সম্পত্তি ও দায়বদ্ধতা বিমা দেওয়ার নতুন কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে শহর কর্তৃপক্ষ।
তবে এই পরিকল্পনার অনেক দিক এখনও অস্পষ্ট। যেমন, কোন মালিকেরা এর যোগ্য হবেন, বিমার প্রিমিয়াম কত হবে, শহর কর্তৃপক্ষকে এতে কত ব্যয় করতে হবে।
এসব দিক চূড়ান্ত করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একজন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিটি কাউন্সিল।
মেয়রের এই পদক্ষেপকে আবাসন খাতে এক ধরনের সমঝোতার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ চলতি বছরের আগ পর্যন্ত মামদানি নিজেও ভাড়াটে ছিলেন এবং নিজেকে বড় বড় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের প্রতিপক্ষ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন।
তার প্রশাসন এরই মধ্যে অবহেলাকারী বড় বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভাড়ায় জালিয়াতিবিষয়ক শুনানির আয়োজন করেছে, যেখানে ভাড়াটেরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন।
নিউইয়র্ক সিটির আবাসন ও পরিকল্পনাবিষয়ক ডেপুটি মেয়র লায়লা বোজর্গ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিমা খরচ কমলে শেষ পর্যন্ত ভাড়াটেদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। কারণ বিমা বাবদ টাকা বাঁচলে মালিকেরা বাড়ি মেরামত ও উন্নয়নের কাজে বেশি খরচ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে যে অচলাবস্থা চলছে, আমরা তারই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি। বাজার ব্যবস্থা সাশ্রয়ী আবাসন শিল্পের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।’