ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী সামরিক অভিযানে নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার জনের মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ইসরায়েলি একটি সংবাদমাধ্যম জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের এক শতাংশেরও কম অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজ রোববার (৩ মে) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর গতি এতটাই ধীর যে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সাত বছর লেগে যেতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, উপত্যকাজুড়ে ধসে পড়া হাজার হাজার ভবনের নিচে এখনো মরদেহগুলো পড়ে আছে। পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের উদ্ধার ও দাফন করার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
এই মূল্যায়ন মূলত ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
সংস্থাটি আগেই সতর্ক করেছিল, গাজায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার তীব্র ঘাটতি রয়েছে, যা বিশাল এলাকায় উদ্ধারকাজ দুরূহ করে তুলেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েল প্রতিদিন সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি চলাকালে এখন পর্যন্ত ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ বন্ধ করা, যে আক্রমণে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার জন আহত হন। এছাড়া এই যুদ্ধে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর ৯০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে।