টিটন হত্যার রহস্যভেদ
রাজধানীর নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি কোনো আকস্মিক হামলা ছিল না; বরং বসিলা গরুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিরোধ মেটানোর নাম করে টিটনকে ডেকে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই কিলিং মিশনের নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের সরাসরি নির্দেশনা এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত চার কিলার ও সহযোগীর নাম বেরিয়ে এসেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বসিলা গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে টিটনের সঙ্গে পিচ্চি হেলালের উত্তেজনা চলছিল। বিরোধ মেটানোর কথা বলে পিচ্চি হেলাল নিজে তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে টিটনকে নিউমার্কেট এলাকায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। টিটন সরল বিশ্বাসে বা সমঝোতার আশায় সেখানে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ঘাতক দল তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই হত্যাকাণ্ডে চারজনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেছে, পিচ্চি হেলাল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পুরো ঘটনার সমন্বয় করেছেন। টিটনকে লোকেশনে ডেকে আনার নেপথ্যে তার ভূমিকা ছিল প্রধান। বাদল ওরফে কিলার বাদল সরাসরি অপারেশনটি লিড করেছেন। পেশাদার এই কিলারই টিটনের মাথায় খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রনি ওরফে ডাগারি রনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুর্ধর্ষ এই ক্যাডার ব্যাকআপ টিম হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এ ছাড়া শাহজাহান কিলিং মিশনের যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি মূলত ঘাতকদের দ্রুত এলাকা ছাড়তে সাহায্য করেছেন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, টিটন কারামুক্ত হওয়ার পর মোহাম্মদপুর ও বসিলা এলাকায় তার পুরনো আধিপত্য ফিরে পেতে শুরু করেছিলেন। এটি পিচ্চি হেলাল ও তার সিন্ডিকেটের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানির ঈদে বসিলার পশুর হাটের কোটি টাকার ইজারা ও হাসিল আদায়ের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই টিটনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের কথা উল্লেখ থাকলেও, ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারিতে কিলার বাদল, ডাগারি রনিসহ অন্যদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কিছু নাম পেয়েছি, যারা ঘটনার সময় ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। সিসিটিভি ফুটেজে মাস্ক পরিহিত ঘাতকদের দেহের গড়ন দেখে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।’
সমঝোতার টেবিলে বসার বদলে রক্তক্ষয়ী পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে কিলার বাদলের মতো পেশাদার খুনিরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় চাপ তৈরি হলো।