তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। গত কয়েক দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-এর দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে অভিনেতা বিজয় ও তার দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সুপারস্টার বিজয় রাজনীতিতে নেমেই ব্লকবাস্টার এন্ট্রি নিয়েছেন। কিন্তু বিজয়ের জয়ের আনন্দের পাশাপাশি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম নাটকীয়তা।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি আসন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১০টি কম। অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিনের দল ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন ও এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।
বিজয়ের এই অভাবনীয় উত্থান কেবল তামিলনাড়ু নয়, পুরো ভারতের রাজনীতিতেই এক বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তামিলনাড়ু নাড়া দিয়েছে ভারতের রাজনীতির গোটা সমীকরণকেই।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে ও ঘোড়া কেনাবেচা রুখতে বিজয় তার দলের ১০৯ জন নবনির্বাচিত বিধায়ককে (বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় বিধায়ক সংখ্যা ১০৯) মহাবলীপুরমের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সরিয়ে নিয়েছেন। রাজনীতিতে এটি ‘রিসোর্ট পলিটিক্স’ হিসেবে পরিচিত। বিজয়ের দল বর্তমানে কংগ্রেস (৫টি আসন), বামপন্থী দল (৪টি আসন) ও আইইউএমএল (২টি আসন)-এর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি এই দলগুলো বিজয়ের পাশে দাঁড়ায়, তবে তার আসন সংখ্যা হবে ১১৯, যা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত।
ইতিমধ্যে বিজয় তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তবে রাজ্যপাল এখনও সবুজ সংকেত দেননি ও বিজয়কে তার পর্যাপ্ত জনসমর্থনের তালিকা জমা দিতে বলেছেন। বিরোধী দল ডিএমকে নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন তার নিজের শক্ত ঘাঁটি কোলাথুর আসনেও টিভিকে প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। স্টালিন ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের বিশাল ফ্যানবেজ, তরুণ ভোটারদের সমর্থন ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া টিভিকে-এর এই অভাবনীয় জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বুথ স্তরের সুসংগঠিত প্রচারের মাধ্যমে বিজয় ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, রিসোর্ট রাজনীতির এই লড়াই শেষ করে বিজয় কবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।