ভারতের উত্তরপ্রদেশ সরকারের নতুন প্রকল্প ‘এক জেলা, এক পদ’-এর তালিকায় থাকা ২০৮টি পদের মধ্যে একটিও আমিষ বা মাংসের পদ জায়গা পায়নি বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
স্থানীয় সুস্বাদু খাবারকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও লক্ষ্ণৌ, মোরাদাবাদ ও আজমগড়ের মতো জায়গার বিশ্বখ্যাত আমিষ পদগুলোকে এখান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যেমন, লক্ষ্ণৌর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে রেওয়ারি, চাট, মালাই মাখন ও আম দিয়ে বানানো খাবার। অন্যদিকে মোরাদাবাদ বিভাগের তালিকায় রয়েছে ডালের বিভিন্ন পদ ও হাঁড়ি হালুয়া। অথচ লক্ষ্ণৌর গালৌটি কাবাব ও মোরাদাবাদের মোরাদাবাদি বিরিয়ানি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজমগড়ের বিখ্যাত হাঁড়ি মাটনের মতো সুস্বাদু পদটিও এই তালিকায় অনুপস্থিত।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ‘এক জেলা, এক পদ’ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ বছরের ২৪ জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লক্ষ্ণৌতে এটি উদ্বোধন করেন।
গত সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়।
এই প্রকল্পের বিষয়ে খাদ্য সমালোচকদের প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী আমিষ পদগুলোকে কেন এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো।
খাদ্য সমালোচক ও ইতিহাসবিদ পুষ্পেশ পন্ত দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমি তালিকাটি দেখেছি। এর কোনো মানে হয় না। রায়বারেলির খাবারের তালিকায় মশলা দেখে আমি সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি। মশলা কীভাবে কোনো পদের নাম হতে পারে? রামপুরের তালিকায় রয়েছে হাপসি হালুয়া। এটিও কোনো পদ নয়। লক্ষ্ণৌর জন্য রাখা হয়েছে রেউড়ি, যা আসলে একটি মিষ্টি।’
পুষ্পেশ বলেন, ‘কাকোরি কাবাব বা চার মগজ কা মুরগার মতো পদ রয়েছে, যা লক্ষ্ণৌর কায়স্থ পরিবারগুলোর ঐতিহ্যবাহী পদ। এমনকি ভারত সরকারও স্বীকার করে, এদেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। এটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব শ্রেণির মধ্যে প্রচলিত।
‘শুধু মুসলমান নয়। দলিত, কায়স্থ এমনকি কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ, মৈথিলি ব্রাহ্মণ বা গোয়ার সারস্বত ব্রাহ্মণেরাও আমিষ খান। তাছাড়া খাবারকে মানুষের তৈরি সীমানা দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। যেমন খাবারের ক্ষেত্রে লাহোর ও অমৃতসর যমজ শহরের মতো।’