তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন ঘিরে রাজনৈতিক নাটকীয়তা আরও তীব্র হয়েছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি এম কে স্ট্যালিনের দল দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) অথবা এডাপ্পাদি পালানিস্বামীর সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) সরকার গঠনের দাবি জানায়, তাহলে দলের সব বিধায়ক পদত্যাগ করবেন।
দলটির দাবি, ১০৮টি আসন জিতে তারা একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই সংবিধান অনুযায়ী তাদেরই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। তবে রাজ্যপাল আর ভি আরলেকার, বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দেননি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের প্রমাণ টিভিকে দিতে পারেনি। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখাতে বলেছেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে দলটি কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে টিভিকে।
এদিকে ডিএমকের জরুরি বৈঠকে চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে দলীয় প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দলটি জানায়, নতুন নির্বাচন এড়ানো ও স্থিতিশীল সরকার গঠনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তবে ডিএমকের শীর্ষ সূত্র জানায়, এমন একটি সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে যেখানে এআইএডিএমকের পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন ও বাইরে থেকে সমর্থন দেবে ডিএমকে।
ডিএমকের একাংশের শঙ্কা, বিজয় ক্ষমতায় এলে তিনি প্রয়াত কিংবদন্তি নেতা এম জি রামাচন্দ্রনের মতো দীর্ঘদিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে ডিএমকের জন্য ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে এআইএডিএমকে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ অবস্থানে রয়েছে। দলের একাংশ টিভিকের সঙ্গে জোটে আগ্রহী হলেও সিনিয়র নেতারা তা নাকচ করে দিয়েছেন। পালানিস্বামী দলের বিধায়কদের শান্ত থাকতে ও আরও দুই দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্যপালের অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়েছে টিভিকের সম্ভাব্য মিত্ররাও। ক্যমুনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া বলেছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত ও পরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিৎ।
এছাড়া থল থিরুমাভালাভান ও বলেছেন, শপথ অনুষ্ঠানের আগেই ১১৮ জনের সমর্থনের তালিকা চাওয়া সংবিধানসম্মত নয়।
চমকপ্রদভাবে, বিদায়ী দল ডিএমকেও রাজ্যপালের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য ও জনরায়ের প্রতি অসম্মান বলে মন্তব্য করেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে কথা বলেছেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি