সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এসবই নিছক ভাঁওতাবাজি! এই যুদ্ধের দিকে তাকালে বোঝা যায়, মার্কিন জনগণ এটা চায় না। কংগ্রেসও এর অনুমোদন দেয়নি। এমনকি অনুমোদন থাকলেও এই যুদ্ধ শুরু করা উচিত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে নেভাদা ডেমোক্র্যাটদের এক ঘরোয়া আলোচনায় উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
ট্রাম্পের এক মন্তব্যের সূত্র ধরে হ্যারিস বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) প্রথমে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আবার পরে অন্য কথা বললেন। আসলে এসব নিছকই ভাঁওতাবাজি!’
তার এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকেরা তুমুল করতালি দিয়ে ওঠেন। করতালির মধ্যেই এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী রসিকতা করে বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জনসম্মুখে আর কখনো গালি দেব না।’
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই হ্যারিসের পক্ষ থেকে এসব মন্তব্য এলো।
ইরান যুদ্ধের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দর্শকদের হ্যারিস বলেন, ‘আপনারা কি জানেন, এই ইরান যুদ্ধে আসল বিজয়ী কে? রাশিয়া। তেলের বাজারের পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কী করেছেন? তিনি রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন। এর অর্থ হলো, তারা এখন তেল বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছে, যা আগে নিষিদ্ধ ছিল।
‘শুধু তাই নয়, আমরা এখন সেই কামান, গোলাবারুদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (ইরান যুদ্ধে) পাঠাচ্ছি, যা আসলে ইউক্রেনের পাওয়া উচিত ছিল। এর পরিণতি অনেক সুদূরপ্রসারী।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাকে কেবল একজন নির্বোধ হিসেবে অগ্রাহ্য করব না। তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
এসময় হ্যারিস ভোটাধিকার আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মতামতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
তিনি বলেন, এটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভীর প্রভাব ফেলবে।
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টার সমালোচনা করে হ্যারিস বলেন, ‘তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের ভোট দেওয়া কঠিন করে তুলছে। তারা জানে, জনগণ বোকা নয়। জনগণ জ্বালানির দাম, আবাসন খরচ এবং এই যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে সচেতন রয়েছে।’