তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে আবারও রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান ও অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়।
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, এদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজ্যপালের সঙ্গে বিজয়ের এই সাক্ষাৎ হতে পারে।
২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এটি হতে যাচ্ছে তাদের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার তিন দিন পরও রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটেনি।
বিজয়ের নিজের জেতা দুটি আসনের একটি ছেড়ে দিতে হবে বলে কার্যকরভাবে তাদের আসন সংখ্যা ১০৭। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন।
অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার থেকে বিজয় এখনো ১১টি আসন দূরে রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পাইওনিয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে কংগ্রেসের শর্তসাপেক্ষে সমর্থন নিয়ে টিভিকে সরকার গঠনের দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিলেও সূত্র বলছে, বিজয় বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে রাজ্যপাল আরলেকার এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি।
এদিকে বিজয়ের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ও নিখিল ভারত আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) জোট বাঁধতে পারে বলে গুঞ্জন তীব্র হয়েছে।
সূত্রমতে, এই ধরনের কোনো সমীকরণের জন্য বামপন্থী দল এবং ভিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচির (ভিসিকে) সমর্থন বা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যারা এখনো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বিজেপি।
এক চিঠিতে তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি নৈনার নাগেন্দ্রন জানিয়েছেন, দল জনগণের রায়কে সম্মান করে এবং সরকার গঠনে অংশ নেওয়ার মতো জনরায় তারা পায়নি।
তিনি বলেন, ‘তামিলনাড়ু বিজেপি কোনোভাবেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় না।’
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ তামিলনাড়ুর এই অচলাবস্থায় মুখ খুলেছেন।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নীতি অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দলকেই প্রথমে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত।
ওমর আব্দুল্লাহর মতে, ‘বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। যদি তিনি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন তাহলে থাকবেন; অন্যথায় পদত্যাগ করবেন।’
কংগ্রেস সংসদ সদস্য জোতিমণি ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের গুঞ্জনের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কীভাবে এক হতে পারে।
তবে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মনিশঙ্কর আয়ার টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একে ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদের উদাহরণ’ বলেছেন।
সব মিলিয়ে জোট গঠন এবং সমর্থনের সমীকরণ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলতে থাকায় তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বেশ টালমাটাল।