তামিলনাড়ুর নতুন ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্র, পুলিশ, সাধারণ প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিভাগগুলো নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিখিল ভারত আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) ঝানু নেতা কে এ সেঙ্গোত্তাইয়ানকে।
এক প্রতিবেদনে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, রাজভবনের শনিবারের (১৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১০ মে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। এরপর ১৬ মে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সুপারিশ অনুযায়ী মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন অনুমোদন করেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজে যেসব দপ্তর সামলাবেন, তার মধ্যে রয়েছে—পাবলিক, জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইএএস, আইপিএস, আইএফএস, জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা, পুলিশ, স্বরাষ্ট্র, বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নারী কল্যাণ, যুব কল্যাণ, শিশু ও প্রবীণ কল্যাণ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, পৌর প্রশাসন, নগর ও পানি সরবরাহ।
অন্যদিকে বিজয়ের ভক্তদের সংগঠনগুলোকে পুরোদস্তুর রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করতে যিনি দীর্ঘসময় ধরে কাজ করেছেন, সেই এন ‘বুসি’ আনন্দকে গ্রামীণ উন্নয়ন ও পানিসম্পদ মন্ত্রী করা হয়েছে। তার দপ্তরের অধীনে থাকছে গ্রামীণ উন্নয়ন, পঞ্চায়েত, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ ঋণগ্রস্ততা দূরীকরণ এবং সেচ ব্যবস্থা।
টিভিকের প্রধান নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক ও দলটির আসন সমঝোতা আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখ আধব অর্জুনকে দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত ও ক্রীড়া উন্নয়ন দপ্তর; যার মধ্যে ভবন নির্মাণ, মহাসড়ক ও ছোট বন্দরগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
সাবেক আইআরএস কর্মকর্তা ও টিভিকের কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মুখ ড. কে জি অরুণরাজ সামলাবেন স্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর।
তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের হাতেগোনা কয়েকজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের একজন সেঙ্গোত্তাইয়ানকে অর্থ, পেনশন এবং পেনশন ভাতা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রথম প্রজন্মের তরুণ মুখদের আধিক্য থাকা এই মন্ত্রিসভায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়োগ।
পি ভেঙ্কাটারামানানকে খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আর নির্মলকুমার পেয়েছেন জ্বালানি সম্পদ ও আইন দপ্তর। এর আওতায় বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত জ্বালানি, আইন, আদালত, কারাগার, দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিধানসভা, রাজ্যপাল, নির্বাচন এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলো থাকবে।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, এই দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় একদিকে যেমন তার বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ নেতাদের মূল্যায়ন করেছেন, তেমনি তরুণদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী দপ্তরগুলো নিজের হাতে রেখেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়। সবচেয়ে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং তরুণ মুখদের এমন সব দপ্তরের দায়িত্ব দিয়েছেন, যা দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়নমূলক প্রচারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।