ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত ফ্রান্সের অর্থনীতি এখন মন্দার দ্বারপ্রান্তে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (প্রথম প্রান্তিক) দেশটির অর্থনীতির আকার সংকুচিত হয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি স্থবির থাকবে, এমন প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপের দিকে গেছে।
এই প্রান্তিকে দেশটির রপ্তানি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে এবং ফরাসি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত অভ্যন্তরীণ ব্যয় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশটির অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।
এদিকে ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক সোসাইটি জেনারেল বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় বৃহৎ এই অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধির পতনের মুখে রয়েছে।
ব্যাংকটির অর্থনীতিবিদ ফ্যাবিয়েন বসি জানান, ফ্রান্সের অর্থনীতির গতি মারাত্মকভাবে শ্লথ হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই সংকোচনের পর আগামী তিন মাসেও (দ্বিতীয় প্রান্তিক) যদি প্রবৃদ্ধির এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কাগজে-কলমে মন্দা’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফ্যাবিয়েন বসি বলেন, ‘২০২৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির হার আরও নিচে নেমে যাওয়া এখন ঠেকানো কঠিন। কারণ প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির জের শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে ঠেকেছে এবং বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থনীতিতে বড় কোনো গতি ফেরার আশাও খুব কম।’
অর্থনীতির এই সংকোচনের মধ্যে পৃথক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।