যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা এখন কার্যকর রয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বুধবার (১৭ জুন) বিবিসির কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন; যার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে।
পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক হিসেবে পরিচিত ১৪ দফার এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এছাড়া দেশটির ‘পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর চার মাস পর এই চুক্তিটি হলো।
ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কাজের ওপর নির্ভরশীল’ হিসেবে অভিহিত করেছে; যার অর্থ, ইরান কেবল তখনই এই চুক্তির সুবিধা পাবে, যদি তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি মেনে চলে।
যদিও চুক্তির মূল নথিতে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানও অধরাই রয়ে গেছে, তবুও প্রধান প্রধান বিষয়গুলো সম্পর্কে যা জানা গেছে, তা নিচে দেওয়া হলো।
১ নম্বর দফা: ‘সব ফ্রন্টে' সংঘাতের অবসান
চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে’ বন্ধের ঘোষণা দেবে।
ট্রাম্প এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠছিলেন যে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটিকে ভেস্তে দিতে পারে।
অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তারা লেবাননকেও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় দেখতে চায়।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার যেকোনো চেষ্টা এই ‘সমঝোতার লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এখন থেকে’ কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।
নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত এই চুক্তি সংঘাতের স্থায়ী ‘অবসান’ ঘটাবে। তবে এই দফার বিষয়ে ইসরায়েল কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২ নম্বর দফা: ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ পারস্পরিক শ্রদ্ধা
মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ফোনে কথা বলার সময় চুক্তির যে মূল নথিটি হুবহু পড়ে শোনানো হয়েছিল, সেখানে উল্লেখ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘পরস্পরের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করবে’ এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে।
ইরানের ভিন্নমতালম্বী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কাছে এই বিষয়টি সম্ভবত নেতিবাচকভাবে গৃহীত হবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন যে, ‘সহায়তা আসছে’।
তৃতীয় দফা: মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব এমন ৬০ দিনের সময়সীমা
নথির তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামী ‘সর্বোচ্চ’ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকে ৬০ দিনের এই সময় গণনা শুরু হয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউস বিবিসিকে জানিয়েছে, ফ্রান্সে বুধবার রাতে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এক নৈশভোজে ট্রাম্প ইরানের এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।
হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জেনেভায় একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সেই অনুষ্ঠানটি এখনো হবে কি না, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
৪ নম্বর দফা: অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র
চুক্তির চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত ‘যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা’ অপসারণ করা শুরু করবে।
এই চুক্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে।
এই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যতটা স্বাভাবিক করবে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে ঠিক ততটাই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাস্তবে এর অর্থ হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও বিন্যাস যেমন ছিল, তারা আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।
৫ নম্বর দফা: হরমুজ প্রণালি
চুক্তির একটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান কোনো ধরনের শুল্ক বা ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে আকাশচুম্বী হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি ও সামরিক ‘প্রতিবন্ধকতা’ দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘অবিলম্বে’ জাহাজ চলাচল শুরু হবে।
এর আগে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বারবার এটি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না।
দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে ইরান একটি ‘বৃহত্তর’ চুক্তি গঠনে কাজ করবে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান সেখানে তাদের অধিকার ‘আগ্রাসীভাবে’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যবস্থা ‘কখনোই’ মেনে নেবে না, যেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু থাকে।
৬ নম্বর দফা: ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়ন
সমঝোতা স্মারকের ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক সহযোগীরা মিলে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ‘চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা’ তৈরি করবে।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে এই অর্থায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়াটি নির্ধারণ করা হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের লাইসেন্স, নিষেধাজ্ঞা মওকুফ ও অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এতে আর্থিকভাবে জড়িত থাকবে।
একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ইরানকে ‘এক সেন্টও’ দিতে বা এই তহবিলে কোনো অবদান রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য নয়।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান যদি চুক্তি ‘মেনে চলে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সায় নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ইরানে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে দিতে পারে।
ট্রাম্প এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা মার্কিন জনগণকে এটি স্পষ্টভাবে বোঝাতে বেশ কাঠখড় পুড়িয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সরাসরি কোনো অর্থ দিচ্ছে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এটি ওবামা প্রশাসনের আমলে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত।
৭ নম্বর দফা: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব একক সিদ্ধান্তসহ ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। তবে এর সময়সীমাটি এখনো অস্পষ্ট।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচিটি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।
তবে পরবর্তী আলোচনাগুলোতে উভয় পক্ষই ‘অবিলম্বে’ এই বিষয়টি সমাধানের বিষয়ে একমত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি নামের মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালানো হয়।
৮ নম্বর দফা: পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ
ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা ক্রয় না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং তেহরানের কাছে বর্তমানে যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
তবে এই উপাদানটি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই পদ্ধতিটি এখনো স্পষ্ট নয়।
নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনাগুলোতে এই প্রক্রিয়াটি ‘পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে’।
তবে ন্যূনতম শর্ত হিসেবে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে ইরানের মাটিতেই এই ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে তা অকেজো করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এটিকে ‘ন্যূনতম মানদণ্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করার পেছনে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়া ছিল তার লক্ষ্যের ‘৯৯ শতাংশ’।
যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিটিকে কাজের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাই ৭ নম্বর দফায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি ৮ নম্বর দফায় ইরানের শর্ত মানার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
৯ ও ১০ নম্বর দফা: বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা
চুক্তির পরবর্তী এই দুটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় বা নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
এর অর্থ হলো, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী এই সময়ে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবা, যেমন ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা মওকুফের অনুমতি দেওয়া হবে।
১১ নম্বর দফা: অবরুদ্ধ করা তহবিল
এই বিষয়টি এতদিনের আলোচনার টেবিলে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের আটকে থাকা বা অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছিল, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য সঞ্জীবনী শক্তি হতে পারে।
নথির একাদশ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘আটকে থাকা বা সীমিত করা তহবিলগুলো পুরোপুরি সচল বা উন্মুক্ত করার দায়িত্ব নেবে’ এবং পরবর্তী আলোচনা চলাকালেই এর পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ধারণ করা হবে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, সমঝোতা স্মারক-পরবর্তী আলোচনা চলাকালীনই কিছু সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে; যাতে ইরান চুক্তির বিভিন্ন শর্ত (যেমন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্পত্তির কাজ শুরু করা) মেনে চললে তাদের পুরস্কৃত করা যায়।
১২ থেকে ১৪ নম্বর দফা: পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত আলোচনা
নথির শেষ কয়েকটি দফায় এই চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার লজিস্টিকস বা পরিচালনগত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, এই সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা’ গড়ে তুলবে; যদিও বাস্তব ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাটি দেখতে কেমন হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
এরপর সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়া এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য মূল আলোচনা শুরু করবে।
সবশেষে, এই সমঝোতা স্মারকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন বা সমর্থন দেওয়া হবে।