মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবরোধ সমাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে তারা জানিয়েছে, কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।
এর পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলে শুক্রবার (১৯ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
সর্বোচ্চ নেতা জানান, ‘ভিন্নমত’ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটির অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘ইরানি জাতির অধিকার রক্ষার’ আশ্বাস দেওয়ার পর তিনি এই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন।
খামেনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মরিয়া হয়ে চুক্তিটি সফল করতে সব ধরনের চাপ ও কৌশল ব্যবহার করেছেন। ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলেও তার অর্থ এই নয়, শত্রুর অবস্থানকে মেনে নেওয়া হয়েছে।’
গত বুধবার রাতে ১৪ দফার চুক্তিটি সম্পাদিত হওয়ার পর এই প্রথম খামেনি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানালেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর মার্চ মাসে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে দেখা যায়নি। তবে বিভিন্ন বিষয়ে তার বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
ট্রাম্প অবশ্য খামেনির ওই বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব দেননি।
তবে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আশা করেন, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর যুদ্ধসহ ‘সব ফ্রন্টেই’ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই আলোচনা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ‘নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে’ বলেও আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিটি ১৪ দফার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বাধ্যবাধকতা এবং দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন। যদিও এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
চুক্তিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য থাকবে, যা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আরও বাড়ানো যেতে পারে।
সুইজারল্যান্ডে শুক্রবার এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বিবিসিকে জানিয়েছে, চুক্তিটি দূরবর্তী পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।
অবশ্য পরবর্তী আলোচনার জন্য মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।