ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ক্যাপিটল হিলে (মার্কিন কংগ্রেস) স্বাক্ষরিত চুক্তিটির অনুলিপি পৌঁছানোর পরপরই রিপাবলিকানদের এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এক রিপাবলিকান সিনেটর এ চুক্তিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আরেকজন বলেছেন, চুক্তির কিছু শর্ত ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্পপন্থী কয়েকজন বিশ্লেষক ও ভাষ্যকারও এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে সরে এসে সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন।
রয়টার্স বলছে, রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের কাছ থেকে আসা এমন সমালোচনা বেশ বিরল। এতদিন তারা প্রায় পুরোপুরি ট্রাম্পের প্রতি অনুগত ছিলেন।
তবে আগামী নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির ভেতর অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। কারণ ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা নির্বাচনে তাদের জয়ের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আইনসভার এক বা উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে থাকা ডেমোক্র্যাটরাও এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর করার পরদিন বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে এটির অনুলিপি কংগ্রেস সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়।
উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই জানিয়েছেন, তারা এই চুক্তির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য চান।
কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এই চুক্তি বা প্রশাসনের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে কংগ্রেসকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হয়নি এবং এ ধরনের কোনো ব্রিফিংয়ের সূচিও ঘোষণা করা হয়নি।
এই সমঝোতা স্মারকের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে মূলত কয়েকটি দফাকে কেন্দ্র করে; যেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা অর্থ ছেড়ে দিতে, ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের অনুমতি দিতে এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে।