সিএনএনের বিশ্লেষণ
শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গত কয়েক ঘণ্টায় একাধিক বক্তব্য এসেছে, যা থেকে এটি স্পষ্ট, ওয়াশিংটনের সদিচ্ছা নিয়ে তেহরানের মনে এখনও গভীর অনাস্থা রয়ে গেছে।
কয়েক মাসের লড়াই এবং ব্যর্থ আলোচনার পর তৈরি হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে নিজের ‘ভিন্ন মত’ থাকা সত্ত্বেও তাতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ সিএনএনকে জানিয়েছেন, খামেনির এই অবস্থান মার্কিন আলোচকদের প্রতি তার প্রয়াত বাবার সেই চিরচেনা সন্দিহান মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্টের এই পরিচালক বলেন, ‘বাবার কৌশল অনুসরণ করে মোজতবা খামেনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত আলোচনার অবিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে প্রমাণিত হন, তাহলে তার কাছে যেন বিকল্প পথ খোলা থাকে।’
নিজেদের এই সন্দেহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ।
তিনি বলেন, ‘বিপরীত পক্ষ যদি অসততা দেখায়, চুক্তি ভঙ্গ করে কিংবা অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেয়, তাহলে শত্রুকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না।’
শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ইরানের প্রভাবশালী জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি বা চুক্তির লঙ্ঘন ঘটলে, তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’
পুরো সংঘাতজুড়ে চুক্তির জন্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বারবার সামরিক শক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি চলতি মাসেও আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর তেহরানে বোমাবর্ষণ করে ওয়াশিংটন।
তাছাড়া গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত আলোচনার সময়ও ইরানে বোমাবর্ষণ করা হয়েছিল।
এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ইরানি কর্মকর্তারা ভুলে যাননি।
প্রকৃতপক্ষে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের এই গভীর অবিশ্বাসের শেকড় কয়েক দশক পুরোনো।
এর সূচনা ১৯৫৩ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে; যার ফলে স্বৈরশাসক মোহাম্মদ রেজা পাহলভি পুনরায় ইরানের ক্ষমতায় ফিরে আসেন।
লেক্স হারভি সিএনএনের সাংবাদিক
সিএনএন থেকে নেওয়া