কাতারের সবচেয়ে বড় গ্যাস কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয়। গতকাল সোমবার কাতারের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দোহায় ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, রোববার রাতে রাস লাফান শিল্প নগরীতে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনায় ১২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
কাতারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দূতাবাস আরও জানায়, আহত সবার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে রাস লাফানের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ওই এলাকার আকাশ কমলা রঙ ধারণ করে।
তবে এই বিস্ফোরণের কারণে গ্যাস রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি।
তিনি বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা। কোনো নাশকতা বা শত্রুতামূলক হামলা নয়।’
কাতারের রাস লাফান বন্দর বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বন্দর। এখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এটি ইরানি হামলার শিকার হয়।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার রাতের এই বিস্ফোরণের তীব্রতা রাস লাফান থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী দোহার কেন্দ্রস্থল থেকেও টের পাওয়া যায়। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বাড়িঘরের জানালা। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জ্বালানিমন্ত্রী আল-কাবি জানান, বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে ঘটা এই বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে সরকার। তবে এতে পরিবেশগত কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।
অবশ্য কেন্দ্রটির কার্যক্রম পুনরায় কবে নাগাদ শুরু করা সম্ভব হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন বলে জানান তিনি।