অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পবিত্র এই স্থানে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতির ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপের ধারাবাহিকতায় এটি তাদের সর্বশেষ উসকানিমূলক পদক্ষেপ।
আজান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের পরিচালক শেখ মুতাজ আবু স্নেইনেহ ও প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হাম্মাম আবু মুরখিয়াকে ১২ দিনের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মিডল ইস্ট আইকে ফিলিস্তিনি একটি সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার থেকে মসজিদটিতে আজান দেওয়া হচ্ছে না।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে সংস্কার কাজের অজুহাত দিয়েছে। সম্প্রতি তারা মসজিদের মূল চত্বরের ওপর একটি ছাদ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ওই ফিলিস্তিনি সূত্রটি জানায়, মসজিদে নামাজ পড়া হচ্ছে, কিন্তু আজান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। যে কক্ষটি থেকে আজান দেওয়া হয়, সেটি মসজিদের সেই অংশে অবস্থিত যা সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। আজান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিনকে এখন সেই কক্ষে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি সেনারা।
১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী আমেরিকান-ইসরায়েলি সেটলার ইব্রাহিমি মসজিদে ঢুকে সেজদারত ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় ২৯ জন নিহত হন।
সেই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অংশ ইহুদি উপাসনাকারীদের। বাকি অংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
ইব্রাহিমি মসজিদটি ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই দখলদারিত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ।