সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের আবদিন শহরে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যান অনুপ্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এসময় ইসরায়েলি বাহিনীকে পিছু হটাতে বেশ কয়েকজন সিরীয় তরুণ ও কিশোর অনবরত পাথর ছুড়তে থাকে।
বার্তা সংস্থা এপি আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা বাফার জোনের কারণে সিরিয়ার আবদিন শহরে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
বাফার জোন হলো দুটি শত্রুভাবাপন্ন দেশের মধ্যবর্তী এলাকা, যা দুই বাহিনীর সরাসরি সংঘাত ঠেকাতে তৈরি করা হয়। সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই বাফার জোনে ১৯৭৪ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী টহল দিয়ে আসছিল।
তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলে ঢুকে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী।
আগে যেখানে কোনো দেশেরই সামরিক উপস্থিতি থাকার নিয়ম ছিল না, এখন সেখানে ইসরায়েল স্থায়ীভাবে ঘাঁটি নির্মাণের চেষ্টা করায় এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাদের দখলে থাকা বাফার জোনের কাছেই আবদিন শহরের অবস্থান। গত রোববার সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর অনুপ্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা জানান, ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের হটাতে ইসরায়েলি সেনারা প্রথমে দেয়াল লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তারা পুরো গ্রামে কামানের গোলা নিক্ষেপ করে।
এতে কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্কে বেশিরভাগ বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে চলে যান। গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাদের অনেকেই ভয়ে ঘরে ফিরতে সাহস পাননি।
মোহাম্মদ আল-হাসান নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকদিন পরপরই এই গ্রামে আসে। তারা সাঁজোয়া যান নিয়ে আসে। পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ায়। বসতবাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে।
‘কেউ যদি দরজা না খোলে, তাহলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তল্লাশি চালায়। তখন নারী ও শিশুরা চিৎকার শুরু করে। তাদের এখানে আসাটা অত্যন্ত আতঙ্কজনক বিষয়।’