তৃণমূল কংগ্রেসের চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দলের বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব নেতা আজ দল ছাড়ছেন, তারা পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন তা করলেন না।
গতকাল শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে ৭১ বছর বয়সী মমতা এ প্রশ্ন করেন বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরোয়া করি না। যারা চলে গেছে, তাদের সবাইকে উপেক্ষা করি। আমার কাছে নেতাদের চেয়ে কর্মীরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওরা বিশ্বাসঘাতক। আমি এই বিশ্বাসঘাতকদের বলছি, যদি সাহস থাকে তাহলে বিজেপিতে যোগ দাও।
‘তোমরা কি ভেবেছো, আমি মরে গেছি? তৃণমূলের কর্মীরা মরে গেছে? যারা দল ছেড়েছে, তারা নিজেদের বিপুল সম্পদ ও স্বার্থ বাঁচাতেই গেছে। আর আমাদের বাঁচাতে হবে তৃণমূল পরিবারকে।’
দলের বিদ্রোহীদের নিয়ে মমতার এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির প্রেক্ষাপটে দলের প্রথম সারির নেতাদের বিদ্রোহের মুখে চন্দ্রিমাকে পশ্চিমবঙ্গের দলীয় সভাপতি করা হয়; যার এক মাস কাটতে না কাটতেই পদত্যাগ করেন তিনি।
পদত্যাগের পরপরই চন্দ্রিমা রাজ্য বিধানসভা চত্বরে যান এবং সেখানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও সন্দীপন সাহাসহ তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের এক বৈঠকে যোগ দেন।
এর মাধ্যমে চন্দ্রিমাও যে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হলো।
চন্দ্রিমার দল ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ও আমাকে বলেছিল, পদত্যাগ করবে। তার আগে ওর ছেলে (সাবেক কাউন্সিলর সৌরভ বসু) ওদের (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। আমি পরোয়া করি না।
‘দল হারার (নির্বাচনে পরাজয়) মাত্র দুই মাস হলো। এতটুকু ধৈর্য নেই তোমাদের। তোমরা ১৫ বছর ধরে বিধায়ক আর মন্ত্রী ছিলে। আর এখন তোমরা বিদ্রোহী। নির্বাচনের আগে কেন বিদ্রোহী হওনি?’