ভারতের রাজধানী দিল্লিজুড়ে গতকাল সোমবার দিনভর আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা এবং সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টি সত্ত্বেও মধ্যরাতের পরেও যন্তর মন্তরে দেখা গেছে বিশাল জনসমাগম। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে একের পর এক স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল।
ঘটনাস্থলে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। আন্দোলনকারীদের দাবি, ইচ্ছে করেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এ কারণে মঞ্চের চারপাশে চলাচলের জন্য তারা মোবাইল ফোনের টর্চ ব্যবহার করছিলেন। সঙ্গে ছিল পানির বোতল, বিস্কুটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
সেসময় সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণদের ওপর সোমবার দুপুরে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার খবর শুনে বিকেলে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশাহর থেকে বাসে চেপে দিল্লিতে আসেন আয়ুশ কাশ্যপ।
যন্তর মন্তরে ২১ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, ‘আমার মা-বাবা কৃষক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আমি তাদের বলে এসেছি, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলেই কেবল বাড়ি ফিরব।’
বাণিজ্যে স্নাতক পর্যায়ের এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বালিশ, বিছানার চাদর, টুথব্রাশ। আমি শেষ পর্যন্ত এখানে থাকতে প্রস্তুত।’
এসময় ফের বৃষ্টি শুরু হলে ভিজে যাওয়া এড়াতে আয়ুশ যখন আশ্রয়ের জায়গা খুঁজছিলেন, তখন মঞ্চ থেকে ভেসে আসছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা বিচার চাই) স্লোগান।
দিল্লির মহারানী বাগ এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী আয়ুশী গুপ্তা যন্তর মন্তরে পানির বোতল ও বিস্কুট নিয়ে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত।
কিরোরি মাল কলেজের স্নাতকোত্তরের এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার মা-বাবাও আমার সঙ্গে এসেছেন। তবে ভিড়ের মধ্যে আমরা আলাদা হয়ে গেছি। এগুলো বিতরণ শেষ করে আমি তাদের ফোন করব।’
কাদামাখা পথ ধরে এগোতে এগোতে আয়ুশী বলেন, পুলিশের ‘নৃশংস লাঠিচার্জের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেই তিনি যন্তর মন্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আয়ুশীর ভাষ্য, ‘স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানানো শিক্ষার্থীদের এভাবে মারধর করা কীভাবে সম্ভব? আমি আমারই বয়সী এক শিক্ষার্থীকে মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। সরকার এমন আচরণ করতে পারে কীভাবে? আমরা তো তাদেরই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি।’
আয়ুশীর মতো অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেছেন এবং জনপথের কাছে গাড়ি রেখে হেঁটে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। আবার কেউ কেউ চাঁদা তুলে যাতায়াতের খরচ জোগাড় করেন।
উত্তর দিল্লি থেকে ট্যাক্সিতে করে আসা বিশের কোঠায় পা দেওয়া তিন বন্ধু অমিত, প্রতীক ও আমান জানান, তারা প্রত্যেকে ২০০ রুপি করে দিয়েছেন।
অমিত দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান চাই। এ কারণে এখানে এসেছি।’
আমান বলেন, ‘আমরা সাধারণত রাত জেগেই থাকি। তাই এখানে চলে এসেছি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরব, কারণ মা-বাবা চিন্তা করবেন।
‘তবে কাল আবার বাস চললে ফিরে আসব। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে। সরকারকে স্বীকার করতে হবে যে, তাদেরও ভুল হতে পারে।’