ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রায় পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের আজ বুধবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি।
তাদের এই বিক্ষোভে ২৮ জুন যোগ দেন লাদাখের অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাদের দাবিতে সেদিন থেকে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়। সেদিন পদযাত্রা শুরুর একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে চলে ব্যাপক লাঠিচার্জ। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হন। আটক করা হয় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীকে।
এ ঘটনায় ভারতজুড়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার পরদিন মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা করতে ‘আগ্রহ দেখায়নি’ বলে অভিযোগ তোলে বিরোধী দলগুলো।
এর প্রতিবাদে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা। একপর্যায়ে সেখান থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করা হয়।
ছত্রশাল স্টেডিয়ামে আটক থাকা অবস্থায় ধারণ করা এক ভিডিওতে রাহুল জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ চেয়ে মঙ্গলবার তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
রাহুল বলেন, ‘আমি স্পিকারকে বলেছিলাম, শিক্ষার্থীদের ওপর আগের দিন যে হামলা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের আলোচনার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিকার জানান, এজন্য তাকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল, এ বিষয়ে বিতর্কে সরকারের কোনো আগ্রহ নেই।’
কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা জাতীয় পরিসরে সবার নজরে আনতেই’ বিরোধীদলগুলো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন রাহুল।
লোকসভার বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘যারা শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে? ভারতে শিক্ষা এত ব্যয়বহুল কেন?
‘সন্তানদের লেখাপড়া করাতে গিয়ে কেন পরিবারগুলোকে সামাজিকভাবে ও আর্থিকভাবে নিঃস্ব হতে হচ্ছে? এগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক প্রশ্ন এবং এসব প্রশ্ন তোলায় বিন্দুমাত্র ভুল নেই।’