ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আলোড়ন তোলা আত্মপ্রকাশের পর আজকের সকালটা অভিজিৎ দিপকের জীবনে নিঃসন্দেহে অন্যরকম। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সরকার আন্দোলনকারীদের অন্য দাবিগুলোও মেনে নিয়েছে। তাই এখন কিছুটা বিশ্রামের পালা।
সারাদেশে আলোচিত এই আন্দোলনের ৩০ বছর বয়সী মুখ অভিজিৎ সেই সুযোগটিই উপভোগ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন আমি নিশ্চিন্তে নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারি। এরপর কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, এসব নিয়ে আর ভাবতে হচ্ছে না।’
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় অভিজিৎকে বেশ স্বস্তিতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, ‘এখন আর কোনো আতঙ্ক নেই।’ একই সঙ্গে তিনি ৩৭ দিনের আন্দোলনকে ‘ভীষণ, ভীষণ কঠিন’ বলে অভিহিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির এই নেতা তার অনুসারীদের মনে করিয়ে দেন, ‘এটা কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে।’
গত ১৫ মে একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক আইনজীবীকে তিরস্কার করতে গিয়ে ভারতের তরুণ সমাজকে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকার’ সঙ্গে তুলনা করেন, যারপরই এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনের জন্ম হয় অভিজিতের হাত ধরে।
এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে ওঠে; যা প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে ভারতের জেন জি প্রজন্মের বড় অংশকে একত্রিত করে।
খুব দ্রুতই হাজার হাজার ‘তেলাপোকা’, যে নামে সিজেপির সমর্থকেরা নিজেদের পরিচয় দেন, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র দখলে নেন।
ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
সেখানে শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করেন।
তারা তার পদত্যাগের দাবি জানান। সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় আন্দোলনে প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন সমর্থক যোগ হতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত গতকাল শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহার করে।
তবে এই সাফল্য সহজে আসেনি বলে আজ সকালের ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন অভিজিৎ।
তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করলেও যারা সিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে জ্বরে ভোগার কারণে গতকাল যন্তর মন্তরে উপস্থিত সবার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন অভিজিৎ।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি সত্যিই, সত্যিই, সত্যিই কৃতজ্ঞ।’
পাশাপাশি যারা সমালোচনা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান অভিজিৎ। তার ভাষায়, গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক প্রশ্ন তাকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করেছে।
‘আমার মনে হয়, সে কারণেই আমরা এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি,’ বলেন এই তরুণ নেতা।