ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২০০ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার বেড়েছে। এর আগে, দেশটিতে গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এটি ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও ধরনজনিত, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইটুরি প্রদেশের। প্রদেশটির দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমানে পাঁচটি প্রদেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি আরও দুটি নতুন প্রদেশে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিমান পরিষেবা (ইউএনএইচএএস)-এর হেডলি তাহ বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো সহযোগিতা করতে চাইলেও আক্রান্ত এলাকায় পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সাড়াদানকারী দলকে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর কাজও করছে ইউএনএইচএএস, যাতে সংক্রমণের গতিপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উন্নত শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার কারণে নতুন করে আরও অনেক সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে কিছু হাসপাতালে সংক্রমণ মোকাবিলার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ানো ইবোলা ভাইরাস হেমোরেজিক জ্বর সৃষ্টি করে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকাজুড়ে এই ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইবোলার বান্দিবুগিও ধরন মোকাবিলায় টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা দ্রুত কাজ করছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, বান্দিবুগিও ধরনকে লক্ষ্য করে তৈরি পরীক্ষামূলক একটি টিকার প্রথম ডোজ স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দলের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আরও কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা দ্রুত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতিও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা