ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে উদ্দেশ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের জেরে আর্জেন্টিনা থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে ব্রাজিল। ব্রাজিল সরকারের অভিযোগ, মিলেই তার সাম্প্রতিক ব্রাজিল সফরে দেশটির সরকার ও গণতন্ত্রকে অপমান করেছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সাও পাওলোতে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন মিলেই। সমাবেশটি ছিল ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারের উদ্বোধন উপলক্ষে। ফ্লাভিও আসন্ন অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বক্তব্যে মিলেই সরাসরি লুলার নাম উল্লেখ না করলেও তাকে ইঙ্গিত করে ‘চোর’ এবং ‘দণ্ডিত ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লুলার কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যদিও পরে দুর্নীতির মামলায় লুলার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ড বাতিল হয় এবং তিনি ২০২২ সালে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র। জাইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড পান। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য হওয়ায় নিজের ডানপন্থি লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে সমর্থন দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে বামপন্থি নেতা লুলা এগিয়ে থাকলেও ১০ শতাংশের বেশি ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
সমাবেশে ফ্লাভিও বলসোনারোর পাশে দাঁড়িয়ে মাইলেই বলেন, ‘লুলাকে থামাতে পারে একমাত্র ফ্লাভিও বলসোনারো।’
এ সময় তিনি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসকেও কটাক্ষ করেন। নাম উল্লেখ না করলেও তাকে ‘টাকমাথা আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেন। বিচারপতি মোরায়েসই জাইর বলসোনারোর বিচার কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে গৃহবন্দি বলসোনারোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মিলেইর আবেদনও তিনি নাকচ করে দেন।
মিলেইর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রাজিলের কূটনীতিকরা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক ব্রাজিলীয় কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মিলেই ব্রাজিলের সরকারের দুটি অঙ্গ—ব্রাজিলের জনগণ এবং দেশটির গণতন্ত্রকে অপমান করেছেন।
রোববার এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট লুলা সরাসরি মিলেইর বক্তব্যকে উল্লেখ না করলেও বলেন, ‘ব্রাজিলে আমরা কারও অযাচিত হস্তক্ষেপ মেনে নিই না।’
এ ঘটনাকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম নিম্নতম পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অথচ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অপরের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।