ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আপত্তিকর পোস্ট’-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লি পুলিশ। এসব ঘটনায় এরইমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যম এক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে বিতর্কিত কনটেন্ট অবিলম্বে মুছে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট ব্লকের সুপারিশও করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলাকালে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এই ধরনের পোস্টগুলো করা হয়েছিল বলে দাবি করে দিল্লি পুলিশ। এর মধ্যে ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানহানি এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে একটি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (আইএফএসও)।
পুলিশের কড়া নির্দেশ ও ‘ডিপফেক’ আতঙ্ক
দিল্লি পুলিশ এক্স কর্তৃপক্ষকে পাঠানো নোটিশে কড়া ভাষায় জানিয়েছে, এ ধরনের ‘আপত্তিকর’ কনটেন্ট প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ও ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
পুলিশের তরফ থেকে এক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—
নোটিশ পাওয়ার মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে সব অভিযুক্ত অ্যাকাউন্ট ও ইউআরএল ব্লক বা নিষ্ক্রিয় করতে হবে
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের প্রাসঙ্গিক ডেটা, লগ এবং গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রায় ৫০০টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে, যেখান থেকে বিক্ষোভ সংক্রান্ত ডিপফেক এবং এআই দ্বারা তৈরি ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করার সুপারিশও করা হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপি টানা ৩৬ দিন ধরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সরকার তাদের দাবি মেনে নেওয়ার পর গত ২৫ জুলাই তারা এই দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয়।
এর আগে গত ২০ জুলাই এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আহত হন দু-পক্ষের অনেকেই। পুলিশ সেই সময় ১৫টি এফআইআর দায়ের করলেও পরে তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।