কলম্বিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক পর্নো তারকা ডেইসি আলেহান্দ্রা ওমানা অর্টিজ।
৩৩ বছর বয়সী অর্টিজ সম্প্রতি রাজধানী বোগোতায় বামপন্থী রাজনৈতিক জোট হিস্টোরিক প্যাক্ট–এর সিনেটর হিসেবে শপথ নেন। কলম্বিয়ার সংবাদমাধ্যম লা ওপিনিয়নের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্টিজ পেশাজীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিক হিসেবে। ২০১৭ সালে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট জগতে যোগ দেন এবং দুই বছর পর সেই অঙ্গন ছেড়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
চলতি বছরের মার্চে নোর্তে দে সান্তান্দের অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হওয়া অর্টিজ এখন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তার দাবি, এ খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের শোষণ থেকে রক্ষা করতে কোম্পানি ও এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম আইনি কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অর্টিজ বলেন, ‘ভুল ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার ও দ্বৈত মানসিকতার কারণে এসব নারী রাষ্ট্রের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাই এই খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় আইনও হয়নি।’
সাবেক প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র তারকার রাজনীতিতে আসা নিয়ে সমালোচনারও উত্তর দিয়েছেন তিনি।
অর্টিজ বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করেছেন বলে একজন নারী কেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না?’ এ সময় তিনি ইতালির সাবেক পর্নো তারকা ও সাবেক আইনপ্রণেতা ইলোনা স্টালার–এর উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা আমাকে বৈষম্য, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের অর্থনীতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই আমি এখন আইন প্রণয়নের আলোচনায় তুলে ধরতে চাই।’
অর্টিজের ভাষায়, ‘সমাজ প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র দেখে, কিন্তু আমাদের ক্ষমতার জায়গায় কথা বলার সুযোগ দিতে চায় না।’
বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর রাজনৈতিক জোট হিস্টোরিক প্যাক্ট বর্তমানে দেশটির সিনেটে ২৫টি আসন নিয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি। দলীয় প্রার্থীদের তালিকায় অর্টিজের অবস্থান ছিল ২৩তম।
নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমার জনগণ আমাকে আপন করে নিয়েছে।’
প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের অধিকার ছাড়াও মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন অর্টিজ।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সামনে এখনো অনেক পথ বাকি, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই পরিবর্তনের যাত্রা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো আরেক মেয়াদে নির্বাচন করতে পারেননি। আগামী ৭ আগস্ট নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা শপথ নেবেন।