দিল্লির পর এবার সরকারি চাকরি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করছেন।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যে ঝাড়খন্ডে এই আন্দোলন শুরু হয়।
ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ২৯ জুলাই থেকে এ আন্দোলন শুরু হওয়ার তথ্য দিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ১৪তম ঝাড়খন্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার অনশনকারীদের সঙ্গে আরও পাঁচ শিক্ষার্থী যোগ দিলে চলমান আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শিক্ষার্থীরা বিধানসভা অভিমুখে পদযাত্রারও ঘোষণা দিয়েছেন।
দাবি আদায়ে ঝাড়খন্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (জেকেএলএম) আগামীকাল বৃহস্পতিবার এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) ও কয়েকটি গণসংগঠন ৭ আগস্ট বিধানসভা অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এরই মধ্যে ঝাড়খন্ডের বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানানোয় এই আন্দোলন আরও আলোচনায় আসে।
গত সোমবার অভিজিৎ জানান, আগের রাত অর্থাৎ রোববার তিনি ভিডিও কলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ বলেন, ‘জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি।
‘ককরোচ জনতা পার্টি ঝাড়খন্ডের সব শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে এবং তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।’
অন্যদিকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চান না, এমন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১০ আগস্ট পৃথকভাবে পদযাত্রা করবেন বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
ঝাড়খন্ড সরকার কী বলছে
ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন মঙ্গলবার বলেছেন, ঝাড়খন্ড পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের যে তদন্ত করছে, তার প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করে হেমন্ত বলেন, ‘সরকার সবকিছুর ওপর নজর রাখছে। আমি আমার মনের সব কথা এখনই খুলে বলতে পারি না। তবে সবাই জানেন, আমি যে দায়িত্ব নিই, তা শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করি।
‘বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) দিনরাত কাজ করছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। তদন্তের ফল হাতে পেলেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব এবং কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থী ও রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেব।’