ওমান উপকূলে ছড়িয়ে পড়া তেলের স্তর আনুমানিক ৫০০ বর্গমাইল (১ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার) এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস।
ওমানি কর্তৃপক্ষ আজ শুক্রবার জানিয়েছে, আরব সাগরে আটকে পড়া ট্যাংকারটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তেল।
গ্রিনপিসের প্রচারকর্মী হানেন কেস্কেস জানান, স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পেয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া তেল বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড আকারে রয়েছে। অর্থাৎ এটি এক জায়গায় জমাটবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আয়তন এখনো নিশ্চিত করেনি ওমান সরকার। এ বিষয়ে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ সিএনএনের প্রশ্নের কোনো জবাবও দেয়নি।
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উদ্ধার তৎপরতার অংশ হিসেবে তাদের একটি দল শিগগিরই ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। এ তৎপরতায় জাহাজ ও বিমানসহ ১০০ টনের বেশি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
হামলার শিকার হওয়ার সময় ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল ছিল বলে জানা গেছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই জাহাজ রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত শ্যাডো ফ্লিট বা গোপন ট্যাংকার বহরের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওমানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৬ জুন ওমানের জলসীমার বাইরে একটি অজ্ঞাত ‘ঘটনার’ পর জাহাজটি ২১ জুন কিবলিয়াহ দ্বীপের কাছে গিয়ে আটকে পড়ে।
কিছু নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানালেও ওই ঘটনার প্রকৃতি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে জাহাজটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা, কৃষ্ণসাগরের নোভোরোসিস্ক বন্দর ছেড়ে আসে। সেখানে রুশ জাহাজ চলাচলে হামলা চালায় ইউক্রেন।
পরে এটি ইয়েমেনের কাছ দিয়ে যাত্রা করে, যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অংশ হিসেবে হুতিরা জাহাজে হামলা চালায়।