জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছে পূর্বাঞ্চলীয় চিবা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টিতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
এছাড়া বৃষ্টিতে ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকা পড়েন সাত হাজার যাত্রী।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ভারী বর্ষণকে ‘নজিরবিহীন’ বলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা সর্বোচ্চ সতর্কতার পঞ্চম স্তরের জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
আজ শুক্রবার সকালে সতর্কতার মাত্রা কমিয়ে চতুর্থ স্তরে নামানো হলেও ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা বহালই আছে।
চলতি সপ্তাহে জাপান ও এর আশপাশের দেশগুলোতে একের পর এক ঝড় বয়ে যাওয়ার পর এই প্রবল বর্ষণ হলো। এবার টাইফুন মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় থাকবে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস প্রবাহিত হয়ে ওপরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এর ফলেই এই প্রবল বর্ষণ হয়।
শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের চিবা গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই বলেন, ‘জাপানের আবহাওয়ার ইতিহাসের মানদণ্ডেও এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
‘আগে অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হইনি।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোকিওর ঠিক পাশেই অবস্থিত চিবায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
সাধারণত আগস্ট মাসে জাপানে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টি ছিল তার প্রায় তিন গুণ। একই সঙ্গে এটি জাপানে এযাবৎ রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ।
কুমাগাই জানান, জীবন রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে উদ্ধার তৎপরতা।