অবশেষে জেলবন্দি করা হলো ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে। দেশটির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টকে কারাভোগ করতে হচ্ছে। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে নির্বাচনি তহবিলে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট থাকা সারকোজি সোমবার প্যারিসের লা সান্তে কারাগারে প্রবেশ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ৭০ বছর বয়সি এই সাবেক নেতাকে একক কক্ষে রাখা হবে।
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) সারকোজিকে দক্ষিণ প্যারিসের মনপারনাস এলাকার ঐতিহাসিক ১৯ শতকের লা সান্তে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কারাগারের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ।
কারাগারে যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়ার সময় প্যারিসে তার বাসভবনের বাইরে শতাধিক সমর্থক জড়ো হয়ে ‘নিকোলাস! নিকোলাস!’ বলে স্লোগান দেন। পাশে ছিলেন স্ত্রী সাবেক গায়িকা কার্লা ব্রুনি-সারকোজি।
সারকোজিকে ভালোবাসা ও সমর্থন জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তার ছেলে লুই। জেলে যাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সারকোজি লেখেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই, সত্য একদিন প্রমাণিত হবে। তবে এর জন্য যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা অনেক ভারী।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ সকালে যাকে বন্দি করা হচ্ছে, সে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট নয়, একজন নির্দোষ মানুষ। আমার স্ত্রী ও সন্তান পাশে আছে, তাই আমার জন্য দুঃখ করবেন না। তবে প্রতিশোধের কারণে ফ্রান্সকে অপমানিত হতে দেখে আমি কষ্ট পাচ্ছি।’
সারকোজির আইনজীবী ক্রিস্তফ ইংগ্রাঁ সাংবাদিকদের জানান, তাকে মুক্ত করার জন্য আবেদন দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই আটক কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। অন্তত তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত তিনি ভেতরে থাকবেন।’
লা সান্তে কারাগারে কোনো বিশেষ সুবিধা না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন সারকোজি। তবে কারাগারে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসবাদের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা থাকায় নিরাপত্তার কারণে তাকে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে।