ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গতি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন ও রাশিয়া প্রকাশ্যেই তাদের অবস্থান জানাচ্ছে। ইসরায়েল ও পশ্চিমা সামরিক জোটের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকির মুখে ইরান একা নয় এমন বার্তা দিচ্ছে দুই পরাশক্তি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় কাজ করবে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেবে। অপরদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে।
সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা
রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইরানকে বিভিন্ন সামরিক যন্ত্রাংশ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে সহায়তা দিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। একইসঙ্গে চীনও বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত বিনিময় বাড়িয়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞার চাপ থেকে স্বস্তি দিতে চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহযোগিতা শুধু কৌশলগত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় জোটের প্রভাব মোকাবিলায় একটি বিকল্প জোট গঠনের ইঙ্গিত বহন করছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, এই জোট গঠনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং তা একটি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশ্বরাজনীতিতে এ ধরণের পুনর্গঠিত অক্ষ অনেক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যেখানে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার প্রভাব প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে পারে।
চীন ও রাশিয়ার ইরানপন্থী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিকে আরও নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।