মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও কেন মুখ খুলছে না আঙ্কারা?
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পরপরই বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও উদ্বেগের ঝড় ওঠে। চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তুরস্ক, যাকে একদিকে মুসলিম বিশ্বে প্রভাবশালী বলেই ধরা হয়, অন্যদিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অংশ, তারা এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত:
তুর্কি বিশ্লেষক ড. সেলিম কুরশাদ বলছেন
“তুরস্ক এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করে ইরানের পক্ষে কথা বললে ন্যাটোর ভেতরে চাপে পড়বে; আবার ইরানের বিরুদ্ধে গেলে মুসলিম বিশ্বে সমালোচনার মুখে পড়বে।”
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা:
তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে, এবং উভয় দেশ সিরিয়াসহ নানা ইস্যুতে পরোক্ষ প্রতিযোগিতায় থাকলেও অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। ইরান থেকে তুরস্ক বড় আকারে গ্যাস আমদানি করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য খাতে বহু চুক্তি রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় কথা বললেও, বাস্তবিক ক্ষেত্রে এখন অনেকটাই সতর্ক পথে হাঁটছেন।
অভ্যন্তরীণ চাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ:
দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার চাইছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনায় প্রকাশ্যে জড়াতে না। বিশেষ করে, সিরিয়া সীমান্তে চলমান নিরাপত্তা অভিযান, কুর্দি ইস্যু এবং রাশিয়ার সঙ্গে জটিল সম্পর্কের ফাঁদে পড়া তুরস্কের জন্য বাড়তি চাপ ডেকে আনতে পারে কোনো একপাক্ষিক অবস্থান।
তুরস্কের এই নীরবতা তার বহুমুখী কূটনীতির একটি উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে আঙ্কারা। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে, তুরস্ককেও হয়তো স্পষ্ট অবস্থান নিতে বাধ্য হতে হবে।