সিরিয়া ও ইরাকজুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের টানা আক্রমণ, তেহরানের হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা Syrian Observatory for Human Rights (SOHR) এবং লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সিরিয়া ও ইরাকে ইরানপন্থী মিলিশিয়া ও অস্ত্রগুদামে অন্তত ২৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে
নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৬১০ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি ইরানি নাগরিক।
হামলার লক্ষ্য ও কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এ হামলাগুলো চালাচ্ছে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে। ইরান সিরিয়া ও ইরাকে অস্ত্র সরবরাহ ও ছায়া-ঘাঁটি গড়ে তুলছে এই আশঙ্কায় ইসরায়েল আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেন,
আমরা আমাদের সীমান্ত নিরাপদ রাখার স্বার্থে আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইরান যদি অস্ত্র ছড়ায়, আমরা সেটিকে লক্ষ্য করব।
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারি
তেহরান এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা আস্তিয়ানী বলেন, “প্রতিটি শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। ইসরায়েল যদি আগ্রাসন না থামায়, আমরা তাদের জবাব দিতে বাধ্য হব।” এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে এবং জরুরি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,
মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বহন করতে পারবে না। সবার আগে মানবিক সহায়তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ হামলাকে ‘উদ্বেগজনক সামরিক বিস্তার’ বলে উল্লেখ করলেও, ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়।
আঞ্চলিক উত্তেজনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা