গ্রিনল্যান্ড দখলের আওয়াজ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আমেরিকা ও ডেনমার্কের মধ্যে চলছে চাপা উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে ৭৪ বছরের পুরনো একটি আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউসকে কঠোর বার্তা দিয়ে রাখল ডেনমার্ক।
ডেনমার্ক জানায়, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে গেলে ডেনমার্কের সেনারা আগে গুলি চালাবে, তার পরে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে।
১৯৫২ সালের ডেনমার্কের সেনা-আইন অনুযায়ী, দখলকারী হামলা চালানোর চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা না করে পাল্টা গুলি চালাবে সামরিক বাহিনী। পরে হামলাকারীর উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাঘাতের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সেনা।
ডেনমার্কের একটি সংবাদমাধ্যমকে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় জানায়, ৭৪ বছরের এই নিয়ম এখনও বলবৎ রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এতে মেরু অঞ্চলও সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের।
রোববার (৪ জানুয়ারি) আরও একবার নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এখন এটা কৌশলগত ব্যাপার।
প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন জানান, হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন। আমেরিকা যদি ন্যাটোর অন্য কোনও সদস্যরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে, তা হলে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত ডেনমার্কও আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্য।
ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৩০০ বছর ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার।
দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ট্রাম্প একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে বিকল্প পথ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে আমেরিকা। লক্ষ্য অর্জন করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে তার প্রথম পছন্দ সেটিও বুঝিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো ন্যাটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলি।