ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনার সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে কিউবা, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোকেও একপ্রকার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকনেনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়ে কার্যত সামরিক জোটটির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের পথে এগোতে থাকেন তবে ন্যাটোর কার্যত অবসান ঘটতে পারে ও ইউক্রেনে রাশিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
মাদুরো অপহরণের পরদিনই ট্রাম্প বলেন, আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, একেবারেই দরকার। প্রতিরক্ষার জন্য এটি প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, এই প্রশাসনের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।
আটলান্টিক কাউন্সিলের নর্দার্ন ইউরোপের পরিচালক আনা উইসল্যান্ডার বলেন, ভেনেজুয়েলায় পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যার ভৌগোলিক অংশেই গ্রিনল্যান্ড পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় সফল হস্তক্ষেপের পরপরই গ্রিনল্যান্ডে বলপ্রয়োগের হুমকি দেওয়ায় বাস্তবে এমন পদক্ষেপের সম্ভাবনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তাহলে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি) অর্থহীন হয়ে পড়বে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চলতি মাসের শুরুতে বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রেসিডেন্ট যখন বলেন তিনি গ্রিনল্যান্ড চান, তখন সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এতে ন্যাটো জোটের মৃত্যু ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আরেকটি ন্যাটো দেশের ওপর হামলা চালায়, তাহলে সবকিছুই থেমে যাবে। এর মধ্যে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামোও রয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের ইউরেশিয়া বিশেষজ্ঞ কিয়ার জাইলস বলেন, ইউরোপ কেবল সময় কিনছে। ইউরোপের উচিত এখনই গ্রিনল্যান্ডে সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেমনটি ২০১৭ সালের পর বাল্টিক দেশগুলোতে ন্যাটো সেনা মোতায়েন করে রাশিয়াকে ঠেকানো হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য বড় উপহার হবে।
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমাইয়ার বলেন, ন্যাটোর অভিন্ন মূল্যবোধ হারালে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়ে। ট্রাম্প গত বছর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলার পর ফ্রান্স কানাডার উপকূলে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠায়।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন কি না। মার্কো রুবিও সামরিক বিকল্প পুরোপুরি নাকচ করেননি। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনকে উসকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইতে বাধ্য করতে পারেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে উৎসাহ দিতে মাথাপিছু ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথাও ভাবছেন।