যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ শীতকালীন তুষার ঝড়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ বাড়ি। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানায়, উত্তরপূর্বাঞ্চলের নিউ ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের টেক্সাস পর্যন্ত অঞ্চলজুড়ে ‘প্রাণ সংহারী’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
দেশজুড়ে স্কুল ও রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হাইপোথার্মিয়ায় অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের কারণে টেক্সাস, টেনেসি ও ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পাওয়ারআউটেজ ডটইউএসের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২৯ মিনিটে টেক্সাস থেকে ক্যারোলাইনা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় ৮টি অঙ্গরাজ্যের ৮ লাখেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ভারী তুষারপাত, স্লিট (শক্ত ছোট বরফের গুটি) ও হিমায়িত বৃষ্টি (মাটিতে পড়ামাত্রা জমে বরফে পরিণত হওয়া বৃষ্টি) কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ দুর্ভোগে পড়তে পারে, যা দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেক।
এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্টোর্যালি সিবিএস নিউজকে জানান, এই তুষার ও বরফ অনেক ধীরে ধীরে গলবে। এগুলো খুব তাড়াতাড়ি যাবে না। তাই এটি যে কোনো পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাইপোথার্মিয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে রোববার নিশ্চিত করেছে। টেক্সাসের অস্টিন শহরের মেয়র জানান, তাদের এখানেও অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ক্যানসাসের কর্মকর্তারা জানান, রোববার বিকেলে এক নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তিনিও সম্ভবত হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছেন। আবহাওয়াজনিত কারণে টেনেসিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক্স এ এক পোস্টে জানান, শনিবার (২৩ জানুয়ারি) তার শহরে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে তাদের মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকল সেখানকার বাসিন্দাদের রাস্তায় বের না হতে ও ঘরের ভেতরে থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ দেশটির প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবারও ঝড় অব্যাহত থাকবে, এমন আশঙ্কায় দেশজুড়ে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। মার্কিন সিনেট সোমবার সন্ধ্যায় ভোটের একটি সূচী বাতিল করেছে।