প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৫০:২৩
আগামী ২৬ অথবা ২৭ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ পাশে) একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই লঘুচাপটি ধাপে ধাপে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
এই আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে প্রায় সব আবহাওয়া মডেলই একমত। তবে ঝড়টি কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং কোন অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানবে—এই দুই বিষয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মডেলের পূর্বাভাসে এখনও মিল নেই।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য প্রভাবের এলাকায় রয়েছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল থেকে শুরু করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। অর্থাৎ এই সমগ্র উপকূলজুড়ে যেকোনো জায়গায় ঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যাবে আগামী ২৬ নভেম্বরের পর। সেদিন জানা যাবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির তীব্রতা এবং সম্ভাব্য গতিপথ কোনটি হবে।
দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে আজ রোববার সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হতে পারে। আজ সকালে আবহাওয়া অফিসের এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অভজারবেশন টিম-বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, স্ট্রেইট অব মালাক্কা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আগামী ২-৩ দিনে পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমাগত অনুকূল পরিবেশের কারণে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
বিডব্লিউওটি বলছে, এটি পরবর্তীতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৫-২৭ তারিখের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘সেনিয়ার’ (Senyar)। এরপর ২৮-২৯ তারিখ নাগাদ আরও উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্য ও পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে এসে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এবং এরপর এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে উত্তর ও উত্তর পূর্ব দিকে হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কোথায় আঘাত করবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি?
সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি আগামী ০১-০২ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ উপকূলের মধ্যে যেকোন স্থানে আঘাত হানতে পারে। তবে সিস্টেমটি সুগঠিত হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাস এর সঙ্গে আঘাত হানার স্থান সম্পর্কে বলা কঠিন। অর্থাৎ আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে সিস্টেমটি সুগঠিত হওয়া পর্যন্ত আরও সময় লাগবে।
এর প্রভাবে বাংলাদেশে একটি বৃষ্টিবলয় চালু হতে পারে৷ এটি আগামী ৩০ বা ০১ তারিখে শুরু হয়ে প্রায় ২/৩ দিন স্থায়ী হতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রাথমিক আঘাত হানার স্থানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের তুলনায় দেশের বাকি এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।
উপকূলীয় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন মোস্তফা কামাল পলাশ।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ডিসেম্বর মাসের ৩ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের উপরে হালাক থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ফলে জমিতে থাকা পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াই করা শেষ করার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। শীতকালীন শাক-সবজি চাষিরা সম্ভব্য এই বৃষ্টিপাতের কথা মাথায় রেখে বীজ বোনা ও জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত জন্য রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে পুরো দেশে।
সমুদ্রগামী জেলাদের জন্য পরামর্শ
ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল হওয়ার শুরু করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ০১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপকূলে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে সমুদ্রে মাছ ধরা সকল ট্রলারকে। ৩০ নভেম্বরের পরে নতুন করে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ আবহাওয়া পূর্বাভাস
ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল হওয়ার শুরু করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মধ্যবর্তী সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে।