হাতিরঝিল থানার ওসিকে তলব ও নবীন ফ্যাশনের মগবাজার শোরুম আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিএমএম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী জাস্টিস অব পিস হিসেবে স্বপ্রণোদিত হয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) এ আদেশ দেন।
দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদেশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বুধবার জানা যায়, মগবাজার এলাকার বিশাল সেন্টার মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকানে একদল লোক পুলিশসহ হাজির হয়ে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুকুম দিচ্ছে। ঘটনার সময় কিছু লোককে খুব উদ্ভূত আচরণ করতেও দেখা যায়।
এতে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যদের নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশের এমন নির্লিপ্ততা মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করবে বলে মনে করেন আদালত। পুলিশের এ ধরনের নির্লিপ্ততাকে কেন আইন বহির্ভূত ও পেশাদারিত্ব আইনবিরোধী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে আগামী ৩ দিনের মধ্যে অত্র আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হলো।
আদালত আরও বলেছেন, উল্লেখিত ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির দোকান আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে খুলে দেওয়ার জন্য হাতিরঝিল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজাকে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় আদালতে জমা দেওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য এর অনুলিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঈদুল ফিতরের আগের দিন, অর্থাৎ গত ২০ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে তুলনামূলক কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় আশপাশের কিছু ব্যবসায়ীকে ‘নবীন ফ্যাশন’ দোকানটি বন্ধ করে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেশী ব্যবসায়ীরা কম দামে পণ্য বিক্রিকে ‘রিলিফ বিতরণের’ সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিও দেখা যায়। এরপর ২৪ মার্চ রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল হাসান নবীন। পরে রাতে তিনি দেশ ছাড়েন।
এনামুল হাসান নবীন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’