রাজধানী ঢাকা থেকে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপরাধীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির করা হলে তদবিরকারীকেও অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান হবে ‘জিরো টলারেন্স’। রোববার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে জব্দ করা চাঁদাবাজির আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
অপরাধ দমনে ডিএমপি ‘সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে মো. সরওয়ার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, অপরাধীদের নির্মূল করা ও নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এই অভিযানে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি (গোয়েন্দা বিভাগ) ও সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম) যৌথভাবে কাজ করছে। অপরাধী দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাকে ধরে আনা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদকের বড় বড় চালান জব্দ করা হয়েছে। শুধু শনিবারই উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ কেজি গাঁজা। মাদক কারবারিদের পাশাপাশি তাদের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে মানি লন্ডারিং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান কমিশনার।
রাজধানীর বসিলা ও কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতিমদধ্যেই দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তায় ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ ক্যাম্প কাজ করছে ও সেখানে নতুন একটি থানা স্থাপনের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পুরো মহানগরীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজও চলমান রয়েছে।
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘চাঁদাবাজ শুধুই একজন অপরাধী। তার পরিচয় বা প্রভাব আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সে যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।’
জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’